রাসেল ভাইপার: এশিয়ার মরণাস্ত্র সাপ
রাসেল ভাইপার কি
রাসেল ভাইপার (Russell's viper) একটি অত্যন্ত বিষাক্ত সাপ। এটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এবং চীনে পাওয়া যায়। এই সাপটি তার তীক্ষ্ণ বিষাক্ত দাঁত এবং দংশনের ফলে সৃষ্ট তীব্র ব্যথার জন্য পরিচিত। রাসেল ভাইপার প্রায়ই মানব বসতি এলাকায় দেখা যায় এবং এর দংশন প্রায়ই প্রাণঘাতী হতে পারে যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়। রাসেল ভাইপার সাধারণত বাদামী বা ধূসর রঙের হয় এবং তার দেহে বেশ কিছু গাঢ় দাগ বা ফোঁটা থাকে।
এটি প্রধানত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, উভচর, এবং অন্যান্য সাপ শিকার করে থাকে। রাসেল ভাইপারের বিষ রক্ত জমাট বাঁধতে, রক্তচাপ কমাতে এবং কিডনির কার্যক্রমে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই, এটির দংশনের পরে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসেল ভাইপার (Russell's viper) বা Daboia russelii একটি ভয়ানক বিষাক্ত সাপ যা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ব্যাপকভাবে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভারতে, শ্রীলঙ্কায়, বাংলাদেশে, মিয়ানমারে, থাইল্যান্ডে এবং ইন্দোনেশিয়ায়।
![]() |
| Russell's Viper |
### বর্ণনা:
- **রং এবং দাগ:** রাসেল ভাইপার সাধারণত বাদামী, ধূসর বা হলদেটে রঙের হয় এবং এর দেহে সমান দূরত্বে বড় বড় গোলাকার দাগ থাকে, যা কালো বা গাঢ় বাদামী রঙের।
- **আকার:** প্রাপ্তবয়স্ক রাসেল ভাইপার সাধারণত ১-১.৫ মিটার (৩-৫ ফুট) লম্বা হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ১.৬৬ মিটার (৫.৫ ফুট) পর্যন্ত বড় হতে পারে।
### আচরণ:
- **অভ্যাস:** রাসেল ভাইপার সাধারণত রাত্রি ক্রিয়াশীল হয়, তবে দিনে ও সক্রিয় থাকতে পারে। এটি মাটির উপরে বাস করে এবং বেশিরভাগ সময় শিকার করে বেড়ায়।
- **শিকার:** এর খাদ্য তালিকায় ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, উভচর প্রাণী, টিকটিকি এবং অন্যান্য সাপ অন্তর্ভুক্ত।
### বিষ:
রাসেল ভাইপারের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর দংশনের পর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। এর বিষের প্রধান উপাদান হল হেমোটক্সিন, যা রক্তকণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
### বিষের প্রভাব:
- **প্রাথমিক লক্ষণ:** তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া, এবং রক্তপাত।
- **মাধ্যমিক লক্ষণ:** মাথাব্যথা, বমি, পাকস্থলীর ব্যথা, এবং কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া।
- **জটিলতা:** অ্যান্টি-ভেনম (বিষের প্রতিষেধক) সঠিক সময়ে না পেলে রেনাল ফেইলিওর (কিডনি বিকল), রক্তচাপ হ্রাস এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।
### চিকিৎসা:
রাসেল ভাইপারের দংশনের পর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে এবং অ্যান্টি-ভেনম প্রয়োগ করতে হবে। দংশনের স্থানে বাঁধন দিয়ে রাখতে হয় না কারণ এটি রক্ত সঞ্চালন আরও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
### প্রতিরোধ:
- **সচেতনতা:** রাসেল ভাইপার যেখানে বেশি দেখা যায় সেই এলাকাগুলোর মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সাপের চলাচলের স্থানগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
- **পোশাক:** সাপের এলাকায় চলাফেরার সময় পায়ে বুট জুতো এবং পা ঢাকা পোশাক পরা উচিত।
- **আশ্রয়স্থল:** ঘরের আশেপাশে ঝোপঝাড়, ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখা এবং সাপ ঢোকার মতো ছোট ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ রাখা উচিত।
রাসেল ভাইপার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা রয়েছে। তবে এর সাথে সচেতনতা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
কোন কোন দেশে রাসেল ভাইপার দেখা যায়
রাসেল ভাইপার মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই সাপটি প্রধানত নিম্নলিখিত দেশগুলোতে দেখা যায়:
1. ভারত
2. বাংলাদেশ
3. পাকিস্তান
4. শ্রীলঙ্কা
5. মিয়ানমার
6. থাইল্যান্ড
7. কম্বোডিয়া
8. লাওস
9. ভিয়েতনাম
10. চীন (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল)
রাসেল ভাইপার সাধারণত শুষ্ক, খোলা এলাকায়, ঘাসযুক্ত মাঠে, এবং চাষাবাদের জমিতে বসবাস করতে পছন্দ করে। এছাড়াও, এটি জঙ্গল এবং বনাঞ্চলতেও পাওয়া যেতে পারে।
![]() |
| Russell's Viper |
বাংলাদেশের কোন কোন জেলায় রাসেল ভাইপার দেখা গেছে
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেল ভাইপার দেখা গেছে। প্রধানত নিচের জেলাগুলোতে এ সাপটির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়:
1. চট্টগ্রাম
2. কক্সবাজার
3. কুমিল্লা
4. নোয়াখালী
5. সিলেট
6. হবিগঞ্জ
7. মৌলভীবাজার
8. সুনামগঞ্জ
9. ময়মনসিংহ
10. টাঙ্গাইল
11. রাঙ্গামাটি
12. বান্দরবান
13. খাগড়াছড়ি
14. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই সাপটি প্রধানত পাহাড়ি এলাকা, বনাঞ্চল, চাষাবাদের জমি, এবং খোলা মাঠে দেখা যায়।
রাসেল ভাইপার বাংলাদেশের আরও কিছু জেলায় দেখা যায়। নিম্নলিখিত জেলাগুলোতেও এ সাপটির উপস্থিতি রয়েছে:
15. ফরিদপুর
16. বরিশাল
17. পটুয়াখালী
18. ঝালকাঠি
19. বাগেরহাট
20. খুলনা
21. যশোর
22. সাতক্ষীরা
23. নড়াইল
24. চুয়াডাঙ্গা
25. মাগুরা
26. মেহেরপুর
এই সাপটি প্রধানত কৃষিজমি, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি, গ্রামীণ এলাকা, এবং নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বাস করে। রাসেল ভাইপার সাধারণত শুষ্ক ও উষ্ণ পরিবেশে বেশি সক্রিয় থাকে।
রাসেল ভাইপার এর ইতিহাস
রাসেল ভাইপার, বা দবোইয়া রাসেলি (Daboia russelii), হল এক ধরণের বিষাক্ত সাপ, যা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই সাপটি নাম পেয়েছে স্কটিশ প্রকৃতিবিদ প্যাট্রিক রাসেল-এর নামানুসারে, যিনি ভারতীয় উপমহাদেশে এই সাপটির প্রাথমিক বর্ণনা দেন।
### আবিষ্কার ও নামকরণ
১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে প্যাট্রিক রাসেল ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তার এই কাজের মধ্য দিয়েই রাসেল ভাইপার-এর পরিচয় ও নামকরণ হয়। রাসেল ভাইপার-এর নামের বৈজ্ঞানিক নাম “দবোইয়া রাসেলি”।
### বাসস্থান
রাসেল ভাইপার ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, এবং পাকিস্তানে পাওয়া যায়। এই সাপটি প্রধানত শুষ্ক এলাকায় এবং চাষযোগ্য জমিতে বসবাস করে, যদিও এটি বনে, ঝোপঝাড়ে এবং খামারের আশেপাশেও পাওয়া যেতে পারে।
### বৈশিষ্ট্য
রাসেল ভাইপার-এর দেহ লম্বা ও পুরু। এর শরীরের রং হলুদাভ বাদামি এবং তাতে গোল গোল দাগ থাকে। এদের বিষ অত্যন্ত বিষাক্ত এবং এর কামড়ের ফলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
### বিপদ ও প্রতিকার
রাসেল ভাইপার-এর কামড় দক্ষিণ এশিয়ার অনেক জায়গায় মৃত্যুর প্রধান কারণগুলির একটি। এই সাপের কামড়ের ফলে রক্তচাপ কমে যাওয়া, রক্ত জমাট বাঁধা, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। রাসেল ভাইপার-এর কামড়ের প্রতিকার হিসেবে এন্টিভেনম ব্যবহার করা হয়।
### সংরক্ষণ
রাসেল ভাইপার-এর সংরক্ষণ নিয়ে খুব একটা উদ্বেগ নেই, কারণ এটি অনেক অঞ্চলেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। তবে, এর বিপদজনক প্রভাব এবং মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ বাসস্থান থাকার কারণে সাপটিকে সচেতনতার সাথে পরিচালনা করা হয়।
রাসেল ভাইপার দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি এবং এটি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান ও সচেতনতা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
রাসেল ভাইপার কেন এত বিষাক্ত
রাসেল ভাইপার-এর বিষের ভয়াবহতা এবং এর কামড়ের মারাত্মক প্রভাবের পেছনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। এই সাপটি তার শিকার ধরতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে বিষ ব্যবহার করে। রাসেল ভাইপার-এর বিষ এত বিষাক্ত কেন, তার কিছু কারণ নিচে আলোচনা করা হল:
### বিষের উপাদান
রাসেল ভাইপার-এর বিষে বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং এনজাইম থাকে, যা শিকারকে দ্রুত অক্ষম করে এবং রক্ত এবং কোষের ক্ষতি করে। রাসেল ভাইপার-এর বিষের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
1. **প্রোটিনেজ এবং এনজাইম**: যা রক্তের জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং রক্তের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।
2. **হেমোটক্সিন**: যা রক্তের লোহিত কণিকা এবং অন্যান্য রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে।
3. **মেটালোপ্রোটিনেজ**: যা কোষের গঠনকে ভেঙে ফেলে এবং টিস্যুর ক্ষতি করে।
4. **সেরিন প্রোটিনেজ**: যা রক্তজমাট বাঁধার সিস্টেমকে বিঘ্নিত করে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটায়।
### প্রভাব
রাসেল ভাইপার-এর বিষ শরীরে বিভিন্ন ধরনের বিপাকীয় এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই বিষের কারণে:
1. **রক্তচাপ কমে যাওয়া**: বিষের উপাদানগুলোর কারণে রক্তচাপ দ্রুত কমে যেতে পারে, যা হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
2. **রক্তজমাট বাঁধার সমস্যা**: বিষের প্রভাবে রক্তজমাট বাঁধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
3. **কিডনি সমস্যা**: বিষের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কিডনি ফেইলিউরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
4. **টিস্যু এবং পেশির ক্ষতি**: বিষের প্রভাবে টিস্যু এবং পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা আক্রান্ত স্থানটি ফুলে যাওয়ার এবং ব্যথার কারণ হতে পারে।
### বিষের কার্যক্ষমতা
রাসেল ভাইপার-এর বিষ অত্যন্ত কার্যক্ষম এবং দ্রুত প্রভাবিত হয়। বিষটি শরীরে প্রবেশ করার পর বিভিন্ন জটিল শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা দ্রুত শিকারকে নিস্তেজ করে এবং মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
### প্রতিকার
রাসেল ভাইপার-এর কামড়ের প্রতিকার হিসেবে এন্টিভেনম ব্যবহার করা হয়। এন্টিভেনম বিষের প্রভাবকে প্রতিহত করে এবং রোগীকে সুস্থ করে তোলে। তবে, দ্রুত চিকিৎসা না হলে রাসেল ভাইপার-এর কামড়ের কারণে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যু হতে পারে।
রাসেল ভাইপার-এর বিষ এত বিষাক্ত হওয়ার কারণ এটির বিষের জটিল উপাদান এবং দ্রুত কার্যক্ষমতা। এই সাপের কামড় থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসেল ভাইপার শ্রেণিবিন্যাস
রাসেল ভাইপার-এর শ্রেণিবিন্যাস জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা এর সঠিক পরিচয় এবং বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য প্রয়োজন। রাসেল ভাইপার-এর শ্রেণিবিন্যাস নিম্নরূপ:
1. **রাজ্য (Kingdom)**: Animalia
- প্রাণিজগৎ
2. **বিভাগ (Phylum)**: Chordata
- কর্ডাটা (কশেরুকাবিশিষ্ট প্রাণী)
3. **শ্রেণি (Class)**: Reptilia
- সরীসৃপ
4. **বর্গ (Order)**: Squamata
- স্কুয়ামাটা (স্কেলযুক্ত সরীসৃপ)
5. **উপবর্গ (Suborder)**: Serpentes
- সাপ
6. **পরিবার (Family)**: Viperidae
- ভাইপেরিডি (বিষাক্ত সাপের পরিবার)
7. **উপপরিবার (Subfamily)**: Viperinae
- ভাইপেরিনা (প্রকৃত ভাইপার)
8. **গণ (Genus)**: Daboia
- দবোইয়া
9. **প্রজাতি (Species)**: Daboia russelii
- দবোইয়া রাসেলি
রাসেল ভাইপার-এর বৈজ্ঞানিক নাম **Daboia russelii**। এই নামটি প্যাট্রিক রাসেল-এর নামানুসারে রাখা হয়েছে, যিনি প্রথম এই সাপের পরিচয় দেন।
### উপপ্রজাতি
রাসেল ভাইপার-এর কিছু উপপ্রজাতি রয়েছে, যা বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
1. **Daboia russelii russelii**
- প্রধানত ভারতীয় উপমহাদেশে পাওয়া যায়।
2. **Daboia russelii siamensis**
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়।
### অন্যান্য তথ্য
রাসেল ভাইপার-এর শ্রেণিবিন্যাস এবং বৈজ্ঞানিক নামকরণের মাধ্যমে এর সঠিক পরিচয় জানা যায় এবং এই প্রজাতির সংরক্ষণ, গবেষণা এবং চিকিৎসায় সহায়তা করা যায়।
রাসেল ভাইপার নিয়ে মজাদার ও অজানা ২০ টি ফ্যাক্ট
রাসেল ভাইপার নিয়ে কিছু মজাদার এবং অজানা তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো:
1. **নামকরণ**: রাসেল ভাইপার-এর নাম স্কটিশ প্রকৃতিবিদ প্যাট্রিক রাসেল-এর নামে রাখা হয়েছে।
2. **বাসস্থান**: এটি ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, এবং পাকিস্তানে পাওয়া যায়।
3. **বিষ**: রাসেল ভাইপার-এর বিষ অত্যন্ত বিষাক্ত এবং এটি হেমোটক্সিন জাতীয়, যা রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে।
4. **রাতের শিকারী**: এই সাপ সাধারণত রাতের বেলা শিকার করে, যদিও দিনে দেখতে পাওয়া যায়।
5. **বংশবিস্তার**: রাসেল ভাইপার সাধারণত একবারে ২০-৪০টি বাচ্চা জন্ম দেয়।
6. **শব্দ**: রাসেল ভাইপার একটি বিশেষ ধরনের ফুঁসফাঁস শব্দ করে, যা অন্যান্য সাপের চেয়ে আলাদা।
7. **আকৃতি**: এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১.২ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
8. **চামড়ার রং**: এদের দেহের রং হলুদাভ বাদামি এবং তাতে গোল গোল দাগ থাকে।
9. **সক্রিয়তা**: এরা সাধারণত সক্রিয় থাকে শুষ্ক মৌসুমে, বর্ষাকালে এদের সক্রিয়তা কমে যায়।
10. **আগ্রাসী**: রাসেল ভাইপার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং বিপদ অনুভব করলে সহজেই আক্রমণ করতে পারে।
11. **খাদ্যাভ্যাস**: এরা প্রধানত ইঁদুর, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, ব্যাঙ, এবং অন্যান্য সাপ খায়।
12. **দীর্ঘায়ু**: রাসেল ভাইপার ১৫-২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
13. **শিকার ধরা**: শিকার ধরার জন্য এরা বিষ ব্যবহার করে, যা শিকারকে দ্রুত অক্ষম করে দেয়।
14. **প্রতিরোধ ক্ষমতা**: অন্যান্য সাপের চেয়ে রাসেল ভাইপার-এর কামড়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম।
15. **হাড়ের গঠন**: এদের দাঁত খুব ধারালো এবং পিছন দিকে বাঁকা, যা শিকার ধরে রাখতে সাহায্য করে।
16. **আবহাওয়া সহনশীলতা**: এরা শুষ্ক এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালোমতো টিকে থাকতে পারে।
17. **চিকিৎসা**: রাসেল ভাইপার-এর কামড়ের প্রতিকার হিসেবে এন্টিভেনম ব্যবহার করা হয়।
18. **রং পরিবর্তন**: রাসেল ভাইপার তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে রং পরিবর্তন করতে পারে।
19. **স্মৃতিশক্তি**: এরা তাদের পরিবেশের পরিবর্তন মনে রাখতে পারে এবং শিকার খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।
20. **মৃত্যু হার**: রাসেল ভাইপার-এর কামড়ের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবছর অনেক মানুষের মৃত্যু হয়, যা সাপের কামড়ের কারণে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি।
এই তথ্যগুলো রাসেল ভাইপার সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ধারণা দেয় এবং এই সাপটির বৈশিষ্ট্য, অভ্যাস এবং প্রভাব সম্পর্কে জানার জন্য সহায়ক।
রাসেল ভাইপার নিয়ে আলোচনার পর একটি উপসংহার টানা যাক:
রাসেল ভাইপার একটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং আক্রমণাত্মক সাপ, যা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর বিষের প্রভাব মারাত্মক হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। প্যাট্রিক রাসেল-এর নামে নামকরণ হওয়া এই সাপটি তার বিষের জন্য বিখ্যাত। এর হেমোটক্সিন জাতীয় বিষ রক্ত এবং টিস্যুর ক্ষতি করে, যা রক্তচাপ কমানো, রক্তজমাট বাঁধা এবং কিডনি সমস্যার মতো গুরুতর শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
রাসেল ভাইপার-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, বংশবিস্তার, এবং বাসস্থান সম্পর্কে জানা আমাদের এই সাপটিকে বুঝতে সাহায্য করে। এর আক্রমণাত্মক স্বভাব এবং শিকার ধরার কৌশল একে একটি ভয়ংকর শিকারী করে তুলেছে। এন্টিভেনম-এর মাধ্যমে এর বিষের প্রতিকার করা যায়, তবে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসেল ভাইপার-এর বিষয়ে এই জ্ঞান আমাদেরকে সচেতন করে তোলে এবং এই সাপের সাথে নিরাপদে বসবাস করার কৌশল শিখতে সাহায্য করে। এর বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাব সম্পর্কে জানা আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


0 মন্তব্যসমূহ