ঘুরে এলাম শ্রীপুর, ভাংনাহাটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

ঘুরে এলাম শ্রীপুর, ভাংনাহাটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ


Date:10/05/2024

 অনেকদিন হলো কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না।তাই ভাবলাম কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাক।

ছোট ভাই কে বললাম চল আগামীকাল শুক্রবার কোথাও ঘুরতে যাই।ছোট ভাইতো খুব খুশি বলল কোথায় যাওয়া যায়। দুজনে ভাবলাম কাছে কোথায়ও ঘুরে আসি।প্রথমে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যাব। পরে আবার সিদ্ধান্ত বদলাতে হলো। ভেবে দেখলাম আজ শুক্রবার কোনো সুন্দর একটা মসজিদে গেলে ভালো হবে।ভ্রমণ ও হবে আবার নামাজ ও হবে। দুজনেই এই সিদ্ধান্তে রাজি হলাম।

জাহিদুল ইসলাম
ভাংনাহাটি মসজিদে আমরা দু জন


অবশেষে শুক্রবার এলো সকালে উঠেই ফজর নামাজ পরে হাটতে ভের হলাম।

সকাল ৮ টার সকালের খাবার খেয়ে সেলুনে আসলাম চুলকাটার জন্য। সেলুন ফ্রী ছিল আর আমি ছিলাম তাদের পুরানো কাস্টোমার সেই জন্য আর দেরি না করে চুল কাটা কমপ্লিট করলাম।চুল কাটার পর সকাল ৯ টায় গোসল কাজ সম্পূর্ণ করলাম এবং ঘুরতে যাওয়ার সমস্ত কিছু তৈরি করে রাখলাম। ঠিক সেই সময় সিয়াম কে ফোন দিলাম সে আসলে কখন বাসা থেকে বের হবে।সিয়াম বলল যে সে ঠিক ১২ টায় বাসা থেকে বের হবে। 


বারোটার সময় আমি সিয়ামকে ফোন দিলাম সে এখন কোথায় আছো।সে আমাকে জানিয়ে দিল তুমি হ্যাচারির পাশে আসো এবং অপেক্ষা কর। আমি ব্লুপ্ল্যানেট নিটওয়ার এর পাশে সিয়ামের জন্য অপেক্ষা করলাম। দুই মিনিট অপেক্ষা করার পর সিয়াম কে সেখনে উপস্থিত হল। 

আমার কাছে যাওয়ার কোন টাকা ছিল না সেজন্য আমি কিছু টাকা তুললাম মোবাইল থেকে এবং সিয়াম ও সেখান থেকে কিছু টাকা তুললো। তারপর সিয়াম আরিফুল ভাইকে ফোন দিল। আসলে আরিফুল ভাই ও আমাদের সাথে ঘুরতে যেতে চাইছিল। তো আরিফুল ভাই বলল সে নাকি এখন বাংলা হাটে মসজিদে উপস্থিত আছেন নামাজের পর আমাদের সাথে দেখা করবে। আমরা আর দেরি না করে অটো নিয়ে বাগনাহাটি মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। 


প্রথম মসজিদে প্রবেশ করে ওযু করে আমাদের নামাজের স্থান টি বেচে নিলাম। আমরা যখন বসলাম তখন ১২:৪০ pm মানে ইমাম সাহেবের অর্ধেক বয়ান শেষ। কি আর করার তখন আমরা বাকি অর্ধেক বয়ান মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। বয়ান শেষে জুমার ৪ রাকাত নামাজ পড়ার জন্য সময় দেওয়া হলো।যারা জুমার প্রথমে চার রাকাত পড়েনি তারা নামাজ পড়ার জন্য দাড়িয়ে গেলেন। আমরাও আমাদের নামাজ শেষ করলাম। 

 

জুমার প্রথম চার রাকাত নামাজ পড়ার খুতবা পড়লেন ইমাম সাহেব। আমরা সকল মুক্তাদী ইমাম সাহেবের খুতবা শুনছিলাম। খুতবা শেষ হওয়ার পর ফরজ নামাজের জন্য ডাকা হল সবাইকে।ইকামতের মাধ্যমে নামাজ শুরু করা হলো , নামাজ শুরু করার পূর্বে ইমাম সাহেব সকল মুক্তাদীদের উদ্দেশ্যে বললেন আপনারা সবাই নিজ নিজ মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন। আল্লাহু আকবারের মাধ্যমে নামাজ শুরু করা হলো। 


জুমার ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর টাকা কালেকশন করার জন্য ইমাম সাহেব বললনে " মুক্ত হস্তে মাদ্রাসার জন্য দান করুন " ।অর্থাৎ মাদ্রাসার উন্নতির জন্য যে টাকা দান করা হয় সেই টাকা তোলা হলো দানবাক্সের মাধ্যমে। প্রত্যেক কাতারে একদম ডান পাশে একটা করে দান বাক্স আছে। নামাজ শেষে মুনাজাত হলো মোনাজাতে সমাজ দেশবাসীর উন্নতি কামনা করা হলো। আমরা মোনাজাত শেষে জুমার বাকি নামাজ পড়ে নিলাম। 


নামাজ শেষে আমরা মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম কারণ এখানে সিয়াম আর খালাতো বোন ভাইয়ের সাথে দেখা করতে এসেছে। অবশেষে আমরা সিয়ামের খালাতো ভাই দেখা পেলাম। তার ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করলাম। এবং মাদ্রাসার যাবতীয় তথ্য তার কাছেই পেলাম। অনেক আকর্ষণীয় সুনামীয়। বলা হয়ে থাকে প্রায় 80 কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই মসজিদ তৈরিতে। মসজিদটি সম্পন্ন মার্বেল পাথরের তৈরি। মসজিদের ফ্লোর গুলো ছিল একদম ঠান্ডা। 


জাহিদুল ইসলাম


ফাইনালি আমরা আমাদের কাজ শেষ করলাম এবং বাসার উদ্দেশ্য রওনা হলাম। একটা অটোতে করে আমি সিয়াম ও আরিফুল ভাই মিলে রওনা হলাম মাওনার দিকে। ১৫ মিনিটের ব্যবধানে আমরা মাওনা চলে  আসলাম। তখন সময় প্রায় দুইটা চল্লিশ মিনিট। মানে এখন আমাদের খাবার সময়। আজকে খাওয়ানোর দায়িত্ব ছিল আমার উপর। প্রথমে আমরা একটা হোটেল বেছে নিলাম হোটেলের নাম ছিল "হাজির বিরিয়ানি "


অর্ডার করলাম তিন প্লেট খাসির কাচ্চি । আমরা তিনজন খুব গ্রোগ্রাসে গিলতে লাগলাম। আমাদের প্রত্যেকটা বিরিয়ানির প্লেটের দাম ছিল ১৭০ টাকা করে। পরবর্তীতে আমরা আমাদের টাকা পরিশোধ করে বাইরে বের হলাম। রাস্তায় আরিফুল ভাই আমাদেরকে ঠান্ডা জাতীয় কোল্ড রিং এর ব্যবস্থা করেছিল। আমি তো মাউন্টেন ডিউ কে বেছে নিলাম নিজের ডিংস হিসাবে। সিয়াম বেছে নিল অস্কার এবং আরিফুল ভাই নিজে নিলেন একটি সেভেন আপ এর বোতল। এই কোল্ড্রিংসের যত টাকা খরচ হয়েছে সব স্পন্সর করেছে আমাদের বড় আরিফুল ভাই। যাইহোক আমরা কোল্ড ড্রিংকস খেতে খেতে হাটা শুরু করলাম। 


আমি আর আরিফুল ভাই সম্পূর্ণ কোলড্রিংস শেষ করেছিলাম কিন্তু সিয়াম তারপর ড্রিঙ্ক শেষ করতে পারেনি যার জন্য আমাদেরকে অংশীদার হতে হলো। 


সেই সময় আরিফুল ভাই তার বাসার সামনে এসে যাওয়ায় সে তার বাসায় প্রবেশ করল এবং আমি আর সিয়াম বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। 


আর এই ভাবেই আমাদের ভ্রমণটা সম্পূর্ণ হলো। 


ঘুরে আসতে পারেন দৃষ্টিনন্দন শ্রীপুর ভাংনাহাটি মসজিদ হাজী আব্দুস সাত্তার দারুল উলুম শ্রীপুর 

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক মসজিদ প্রসঙ্গে : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ‘হাজী আব্দুস সাত্তার দারুল উলুম শ্রীপুর মসজিদ’। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তারের নিজস্ব অর্থায়নে এই মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে।  


মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী কাছে জানা গেছে, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হাজী আব্দুস সাত্তার বেশি ভাগ সময় ঢাকার উত্তরায় থাকেন। সপ্তাহে দুই-একদিন শ্রীপুরের ভাংনাহাটি এলাকায় আসে সবার খোজ খবর নিতে ।



২০১০ সালে ভারতের প্রকৌশলী (engineer) দিয়ে মসজিদটির নকশা ডিজাইন করানো হয়। পরে ভারত থেকে হরেক রঙের মার্বেল পাথর এনে এ মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শেষে হলে রমজান মাসে মসজিদটির শুভ উদ্ধোধন করা হয়।  

৪ বিঘা জমি নিয়ে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করে মাদ্রাসা ও মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে।


দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত মসজিদটির সৌন্দর্য দেখতে ও নামাজ পড়তে প্রতিদিন গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ আসেন। তবে শুক্রবার জুম্বার নামাজ পড়তে এ মসজিদে বিভিন্ন অঞ্চলের মুসল্লিরা ভিড় একটু বেশি জমান।

মসজিদ ও পাশেই একটি মাদ্রাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দেখাশুনার জন্য ৩৩ জন লোক ও অনেকগুলো সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে। ২ তলাবিশিষ্ট এই মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করতে সময় লেগেছে পুরো ৬ বছর। ২৪ ঘন্টা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা চালু রাখতে রয়েছে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জেনারেটর।  


একটা প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ মসজিদে বিশাল উঁচু ২ টি মিনার ও ৪টি গম্বুজ রয়েছে। সামনে রয়েছে আরো ২টি দৃষ্টিনন্দন বিশাল মিনার। পুরো মসজিদটি সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি। মসজিদটির সামনে বিশাল একটি দরজা এবং দরজার পাশে বাম সাইডে গাড়ও পার্ক করার স্থান আর হেটের থেকে কিছু দূর অগ্রসর হলে ডান দিকে দেখা যায় এই মসজিদ । ভেতরে অসংখ্য ইলেক্ট্রিক ফ্যান। মসজিদের ভেতরে মার্বেল পাথরে খচিত কুরআনের ২য় সূরা, সুরা বাকারার শেষ ৩ আয়াত লেখা রয়েছে।


মসজিদের দুই পাশে সবুজ ঘাসের মাঠ এবং নারিকেল, ফুলের বাগান,আম ও লিচু বাগান। সামনের অংশের ডান পাশে রয়েছে ওযু করার জন্য বিশাল অজুখানা।  


নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো মসজিদে C.C CAMERA লাগানো হয়েছে এবং চার দিকে রয়েছে বিশাল সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।  


ওই এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর লোকজন আসে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদে নামাজ পড়তে এবং কেউ আসে মসজিদটির সৌন্দর্য দেখতে। শুনেছি মসজিদটি নির্মাণ করতে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।  


মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা রহমত উল্লাহ জানান, প্রথমে ভারত থেকে প্রকৌশলী (ইন্জিনিয়ার) এনে মসজিদের নকশা ও ডিজাইন করানো হয়। পরে বাংলাদেশের প্রকৌশলী এই মসজিদের কাজ সম্পূণ করেন। প্রতিদিন এই মসজিদের নামাজ পড়তে পাশের মাদ্রাসা ও আশপাশের অনেক এলাকার লোকজন আসে। এছাড়া প্রত্যেক শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে গাজীপুর ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসে এই মসজিদে নামাজ পড়তে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ