পাওয়া গেলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাইরাস
![]() |
| সবচেয়ে বড় ভাইরাস |
গ্রিনল্যান্ডের বরফের পাতায় 'জায়ান্ট ভাইরাস' পাওয়া গেছেভাইরাস শব্দটির অর্থ হলো একটি সংক্রামক এজেন্ট যা জীবিত কোষে প্রবেশ করে এবং সেই কোষের মধ্যে থেকেই নিজেকে প্রজনন করে। ভাইরাসের নিজস্ব কোনো প্রজনন ব্যবস্থা নেই, তাই এটি অন্য জীবিত কোষের উপর নির্ভরশীল। 'ভাইরাস' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ "virus" থেকে এসেছে, যার অর্থ "বিষ" বা "দূষণ"। এটি আণুবীক্ষণিক এবং প্রোটিনের একটি স্তর দ্বারা আচ্ছাদিত জিনেটিক উপাদান (ডিএনএ বা আরএনএ) বহন করে। ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ এবং এমনকি ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রামিত করতে পারে। নিশ্চিতভাবেই ভাইরাস সম্পর্কে জানার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এখানে ভাইরাস সম্পর্কে ১০টি ফ্যাক্ট উল্লেখ করা হলো:
1. **অসংখ্য প্রকার**: পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রকারের ভাইরাস রয়েছে, কিন্তু এদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
2. **আকার ও গঠন**: ভাইরাস খুব ছোট হয়, সাধারণত ২০-৩০০ ন্যানোমিটার আকারের। এদের প্রোটিনের আবরণ (ক্যাপসিড) এবং জিনেটিক উপাদান (ডিএনএ বা আরএনএ) নিয়ে গঠিত হয়।
3. **জীবিত না মৃত**: ভাইরাস জীবিত এবং মৃতের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকে। এরা প্রাণী, উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ না করলে সক্রিয় থাকে না।
4. **প্রজনন ক্ষমতা**: ভাইরাস নিজে নিজে প্রজনন করতে পারে না। এটি সংক্রামিত কোষের প্রজনন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি করে।
5. **বিভিন্ন রোগ**: ভাইরাস বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন: ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইচআইভি/এইডস, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, ইবোলা ইত্যাদি।
6. **ব্যাকটেরিওফাজ**: ব্যাকটেরিওফাজ হলো এমন ভাইরাস, যা শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রামিত করে।
7. **প্রতিরোধ**: ভাইরাস সংক্রমণের প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি।
8. **মিউটেশন ক্ষমতা**: ভাইরাস দ্রুত মিউটেশন করতে পারে, যা এদের দ্রুত পরিবর্তন এবং অভিযোজনের সক্ষমতা দেয়।
9. **ট্রান্সমিশন পদ্ধতি**: ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে ছড়ায়, যেমন বাতাসে (হাঁচি-কাশির মাধ্যমে), শারীরিক স্পর্শে, দূষিত খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে, এবং রক্ত বা অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে।
10. **অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ**: কিছু ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রয়েছে, তবে এরা সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কার্যকর নয়।
![]() |
| জায়ান্ট ভাইরাস |
গ্রিনল্যান্ডের বরফের শীটে পাওয়া গেছে জায়ান্ট ভাইরাস। ডেনমার্কের আরহাস ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী নিশ্চিত করেছেন যে এই ভাইরাস মেরু বরফ গলানোর গতি কমিয়ে দিতে পারে। গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদরে 'জায়ান্ট ভাইরাস' নামে একটি রহস্যময় ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভাইরাস কে কেন জায়ান্ট বলা হয়? কারণ ভাইরাস সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে ছোট হয়। কিন্তু এই বিশেষ ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার থেকেও বড়।
ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একে বিশ্বের জন্য একটি অনন্য আবিষ্কার বলে অভিহিত করেছেন। তাদের গবেষণা পত্র মাইক্রোবায়োম জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ডে বছরের বেশির ভাগ সময় সূর্য দেখা যায় না। যাইহোক, বসন্তে যখন মেরু অঞ্চলে সূর্য দেখা দেয়, তখন তার তাপ বরফ গলে যায়। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত 'জায়ান্ট ভাইরাস' বরফের উপর সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এই ভাইরাস প্রধানত এক বিশেষ ধরনের তুষার শৈবালকে সংক্রমিত করে। এই সামুদ্রিক শৈবাল বরফকে কালো করে। ফলস্বরূপ, বরফের সূর্যালোক প্রতিফলিত করার কম থাকে, যা বরফ গলে যাওয়ার হারকে কমিয়ে দেয়।
আরহাস ইউনিভার্সিটির গবেষক লরা পেরিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'আমরা এখনও ভাইরাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তবে আমি আশা করছি যে এই বিশেষ ভাইরাসটি শেত্তলা দিয়ে বরফ গলানোর জন্য একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।' এ সময় তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই তুষার শৈবালের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে পেয়েছি। এই তুষার শৈবালের বৃদ্ধি দৈত্যাকার ভাইরাসের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে, তারা এখনও নিশ্চিত নয় যে তাদের আবিষ্কার কতটা কার্যকর হবে তা নিশ্চিত নয় তবে এটি সম্পর্কে আরও গবেষণা চলছে।


0 মন্তব্যসমূহ