অনেক আগে ফ্রিজ না থাকলেও মানুষ খেতে পেতো ঠান্ডা পানি কিন্তু কিভাবে?
আজকাল ট্রেনে, বাসে, রাস্তায়, রেস্তোরাঁয় সর্বত্রই জল তেষ্টা পেলে আমাদের হাতে উঠে আসে ঠান্ডা বা নর্মাল সিল করা পানির বোতল।
কিন্তু এই ফ্রিজ তো কিছু দিন আগে এলো!
প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্রাচীন কালে কি মানুষ ঠান্ডা জল পান করতেন না?
আজ্ঞে করতেন, আলবাত করতেন ।
তখন রেফ্রিজারেটর না থাকলেও ছিল ‘ভিস্তি’।
‘ভিস্তি হল এক ধরনের বস্তার (পাটের ব্যাগ এর মতো) মত দেখতে ব্যাগ।
ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি এই বিশেষ পাত্র কে ‘মশক’ও বলে।
এতে জল রাখলে ফ্রিজের মতোই ঠান্ডা থাকত জল।
এই ভিস্তির পানি যারা বাড়িতে মশকের সাহায্য পৌঁছে দিতেন তাদের কে বলা হত পানিওয়ালা বা ভিস্তি ওয়ালা।
এই ভিস্তিওয়ালাদের সঙ্গে রয়েছে অনেক ইতিহাসের যোগ।
কথিত আছে, মুঘল নবাব হূমায়ুন কেনোএক সময় জলে ডুবে যাচ্ছিলেন।
তখন নবাবের জীবন বাঁচিয়েছিলেন এক ভিস্তিওয়ালা।
এমনকি এই ভিস্তির ( ছাগলের চামড়ার তৈরি পাত্র) উপর ভরকরেই সাঁতরে উঠেছিলেন হূমায়ুন।
কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেই ভিস্তিওয়ালাকে একদিনের জন্য তার আসনেও বসিয়েছিলেন নবাব হুমায়ুন ।
অভিবক্ত ভারতবর্ষের ঢাকায় এবং কলকাতায় জল বিলোনোর কাজে তাকতেন এই ভিস্তিওয়ালারাই।
কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ও ওভারস্মার্ট যুগে আজকের প্রজন্ম হয়ত জানেইনা ভিস্তিওয়ালাদের কথা।
পার্সি শব্দ ‘বেহেস্ত’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে এসেছে এই ভিস্তি, এর অর্থ হল স্বর্গ। পৃথিবীর পশ্চিম ও মধ্য প্রান্তে স্বর্গের মতো বেশীরভাগ ছবিতেই মিলেছে নদী ও বাগানের ছবি।
কথিত আছে সেই স্বর্গের নদী থেকে জল এনেই ভিস্তিরা তা বিলিয়ে দিতেন সাধারণ মানুষকে, তাই তাদের কে স্বর্গের-দূতও বলা হত।
তিলোত্তমাতেও এককালে এদের একচেটিয়া ভাবে দেখা যেত ও আনাগোনা ছিল।
ভোরবেলা দোর খুলে রাস্তায় বেরোলেই দেখা যেত এই ভিস্তিওয়ালাদের।
কাঁধে জল ভরতি চামড়ার ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন মুসলিম (muslim) সম্প্রদায়ের মানুষগুলো।
দিল্লিতেও একসময় জমজমাট ছিল ভিস্তির চল।
তবে এখনও এই প্রাচীন পদ্ধতি বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করছপ জামা মসজিদের বাইরে মুশতাকিম চায়ের দোকান।
দোকানে গেলেই দেখা যাবে, ঝোলানো রয়েছে ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি লম্বা লম্বা এই ভিস্তি।
বহুযুগ ধরে প্রাচীন দিল্লির সাক্কে অলিগলিতে বসবাস ছিল এই ভিস্তিওয়ালাদের ।
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ